রবিবার , ডিসেম্বর ১৫ ২০১৯
শিরোনাম

দুনিয়া কাঁপানো ৫ দলবদল

০৫ আগস্ট ২০১৭, ১৩:২১

ফুটবলাররা প্রায় দেবতারই সম্মান পান। অসুর হতেও সময় লাগে না। কদিন আগেও নেইমারের জার্সি বুকে জড়িয়ে ঘুমাতে যাওয়া কাতালান কিশোরটি সেই জার্সি পুড়িয়ে দিচ্ছে সজল চোখ নিয়ে। ওদিকে কিছুদিন আগেই চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে নেইমারকে নিয়ে খিস্তি করা কোনো পিএসজি-সমর্থক হয়তো ঘণ্টা খানেক লাইনে দাঁড়িয়ে কিনে নিচ্ছেন নেইমারের নামাঙ্কিত জার্সি। ক্লাব নিয়ে এই আবেগ কোনো যুক্তি মানে না।

ফুটবল ইতিহাসে বিতর্কিত ও সাড়া জাগানো দলবদল আছে অনেক। সেই ডি স্টেফানোকে নিয়ে বার্সা-রিয়াল টানাটানি থেকে শুরু করে গত মৌসুমে হিগুয়েইনকে নিয়ে নাপোলি-জুভেন্টাস যুদ্ধ পর্যন্ত অসংখ্য দলবদল পাওয়া যাবে, যা আলোচনা-সমালোচনায় ভরপুর ছিল। আলোচনার ঝড় বইয়ে দেওয়া এমন ৫ দলবদলের দিকে একটু চোখ ফেরানো যাক।

লুইস ফিগোলুইস ফিগো
বার্সেলোনার ইতিহাসের সবচেয়ে ‘কুখ্যাত’ দলবদল। পর্তুগিজ তারকা সেবার বার্সেলোনা থেকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালে যোগ দিয়েছিলেন। ফিগোর এই দলবদল মেনে নিতে পারেননি বার্সা-সমর্থকেরা। আহ থেকে ১৭ বছর আগের এই দলবদল এখনো ক্ষত হয়ে আছে বার্সা-সমর্থকদের মনে।
ঘটনার শুরু ২০০০ সালের জানুয়ারিতে। আগের মৌসুমেই বার্সেলোনাকে লা লিগা জেতানো ফিগো আকস্মিকভাবেই রিয়ালে যাওয়ার ঘোষণা দেন। কারণ হিসেবে বলেছিলেন, বার্সা নাকি তাঁকে ‘সঠিক মূল্যায়ন’ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ওদিকে জোসেপ মিগুয়েল (ফিগোকে লিসবন থেকে বার্সায় আনার এজেন্ট) দাবি করেন, ফিগো জানুয়ারিতেই নাকি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে এক চুক্তি করেছিলেন। সেই চুক্তির শর্ত ছিল, পেরেজ রিয়ালের প্রেসিডেন্ট হলে ফিগো বার্নাব্যুতে চলে আসবেন। রিয়ালের হয়ে ন্যু ক্যাম্পে প্রথম সফরেই বার্সা-সমর্থকেরা কী উপহার দিয়েছিল জানেন? শূকরের একটি রক্তাক্ত কাটা মাথা!

ডেভিড বেকহামডেভিড বেকহাম
ইংলিশ ফুটবলে ‘রাজা’ সে সময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ২০০৩ সালে ইউনাইটেডের হয়ে সর্বশেষ মৌসুমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বেঞ্চে বসে ছিলেন বেকহাম। মৌসুম শেষে স্ত্রী ভিক্টোরিয়াকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ছুটি কাটানোর সময় তিনি একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে যে সাক্ষাৎকার দিলেন, তাতেই তোলপাড় চারদিকে—বার্সেলোনা নাকি কিনে নিতে চাইছে তাঁকে! পরদিনই ম্যানচেস্টারে ফিরে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেন তিনি। কিন্তু ‘ফার্গি’ তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। বাধ্য হয়েই এজেন্টমারফত বেকহাম জানান, ইউনাইটেড ছাড়লে তিনি রিয়ালেই যেতে চান। এক সপ্তাহের মধ্যেই পেরেজের সঙ্গে বৈঠক করে চুক্তি সই করেন বেকহাম।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
আবারও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর রিয়াল মাদ্রিদ। ২০০৭ থেকেই রোনালদোকে কিনতে চাইছিল রিয়াল। কিন্তু ‘একগুঁয়ে’ ফার্গুসন ক্রমাগত ফিরিয়ে দিয়েছেন সেসব প্রস্তাব। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে বার্সার কাছে ২-০-তে হারার পর ফার্গুসনের কৌশল ‘ভালো নয়’ বলে মন্তব্য করেন পর্তুগিজ তারকা। এর আগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে একটি ম্যাচে তুলে নেওয়ার বিরক্তিটা চেপে রাখতে পারেননি। মাঠেই এর প্রকাশ ঘটান। ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ দ্বিতীয় দফায় রিয়ালের প্রেসিডেন্ট হলে রেকর্ড ৯৪ মিলিয়ন ইউরোতে বার্নাব্যুতে পা রাখেন রোনালদো।

রবিন ফন পার্সিরবিন ফন পার্সি
টাকার অঙ্কে খুব একটা বড় না হলেও পুরো ইংল্যান্ডে তোলপাড় ফেলে দেয় ডাচ্‌ তারকা ফন পার্সির দলবদল। প্রায় ৯ মৌসুম আর্সেনালের ‘ঘরের ছেলে’ ছিলেন। যদিও এর মধ্যে অধিকাংশ সময়ই চোটে পড়ে কাটিয়েছে। ২০১১ মৌসুমে প্রথমবার পুরো মৌসুম খেলে লিগে সর্বোচ্চ ২৯ গোল করেন। পরের মৌসুমেই মাত্র ২৪ মিলিয়নে ইউনাইটেডে যান। অথচ সে সময় অর্থনৈতিকভাবে ঋণগ্রস্ত আর্সেনাল ক্লাব ইতিহাসের সর্বোচ্চ বেতন দিয়েছিল ‘ফ্লায়িং ডাচম্যানকে’। এখনো গানারদের কাছে ‘বিশ্বাসঘাতক’ নামেই পরিচিত তিনি। তাতে অবশ্য ক্ষতি হয়নি রবিনের। প্রথম মৌসুমে ৩২ গোল করে ইউনাইটেডকে লিগ শিরোপা এনে দেন তিনি।

গঞ্জালো হিগুয়েইনগঞ্জালো হিগুয়েইন
রিয়াল থেকে নাপোলিতে গিয়ে ঝড় তুলেছিলেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। তিন মৌসুমে যথাক্রমে ২৪, ২৯ ও ৩৮ গোল করেন। নাপোলিবাসী যখন ম্যারাডোনার পর তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর্জেন্টাইনের বন্দনায় ব্যস্ত, ঠিক তখনই বজ্রপাত। ক্লাব প্রতিদ্বন্দ্বী ও তখনকার ‘স্কুডেট্টো’ বিজয়ী জুভেন্টাসে যেতে রাজি হন হিগুয়েইন। নাপোলির শত বাধা অতিক্রম করে বাই আউট ক্লজ পরিশোধ করে রেকর্ড ৯০ মিলিয়ন ইউরোতে জুভেন্টাসের সাদা-কালো জার্সি গায়ে তোলেন তিনি। নাপোলি-সমর্থকেরা প্রায় এক সপ্তাহ যাবৎ রাস্তায় নেমে জার্সি পুড়িয়েছে তাঁর!
এসব বাদেও কার্লোস তেভেজের ইউনাইটেড থেকে সিটি, ফার্নান্দো তোরেসের লিভারপুল থেকে চেলসি যাওয়ার ঘটনাগুলো ঝড় তুলেছিল। দলবদল কিন্তু মাঝেমধ্যে মাঠের খেলার চেয়েও উত্তেজনার হয়ে উঠতে পারে। এর নমুনা বারবারই দেখেছে ফুটবল দুনিয়া।