বৃহস্পতিবার , অক্টোবর ১৭ ২০১৯
শিরোনাম

রাজ্যপাল-মমতা দ্বন্দ্ব চরমে

কেশরীনাথ ত্রিপাঠি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠির সঙ্গে কথার যুদ্ধ শুরু হয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাজ্যপাল ফোন করে তীব্র অপমান করেছেন বলে আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তা জানিয়ে দেন মমতা। মমতার এ আচরণে হতবাক রাজ্যপাল বলেছেন, তিনি এমন কোনো কথা বলেননি যাতে মুখ্যমন্ত্রী আঘাত পেতে পারেন। তিনি মমতার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক রীতি ভঙ্গের অভিযোগও তুলেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বাদুরিয়ার সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা নিয়ে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে আরএসএস এবং বিশ্বহিন্দু পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল। সেখানে তারা বাদুরিয়ার কয়েকটি ভিডিও দেখান। এরপরই রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীকে পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করতে ফোন করেন। এই ফোনেই রাজ্যপাল মমতাকে হুমকি দেন বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন।
ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘রাজ্যপালের কথায় আমি আজ দারুণভাবে অপমানিত হয়েছি। জীবনে এভাবে কোনো দিন অপমানিত হইনি। রাজ্যপালের দয়ায় আমি ক্ষমতায় আসিনি। রাজ্যপাল সাংবিধানিক পদে আছেন। আমিও সাংবিধানিক পদে আছি। উনি এভাবে কথা বলতে পারেন না।’
ক্ষুব্ধ মমতা বলেন, ‘উনি (রাজ্যপাল) বিজেপির পক্ষ নিয়ে কথা বলে আমায় অপমান করেছেন। মনে হচ্ছিল উনি বিজেপির ব্লক সভাপতি কথা বলছেন। আমরা চাকরবাকর নই। মানুষের ভোটে ক্ষমতায় এসেছি। আমাকে রীতিমতো হুমকি দিয়েছেন রাজ্যপাল। আমি চেয়ারে বসার জন্য আসিনি। গায়ে গতরে খেটে কাজ করি।’
মমতা এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘একজন দেশের মধ্যে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে বিদেশে গিয়ে ঐক্যের কথা বলছেন। দেশে কী হচ্ছে, সেদিকে তাঁর নজর নেই।’ মমতা আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলবেন না, বলেছি রাজ্যপালকে। রাজ্যপাল আমাকে হুমকি দিতে পারেন না। আমি এসব বরদাশত করি না। রাজ্যপাল আমাকে হুমকি দিয়েছেন।’
এদিকে রাজভবন থেকে এ ঘটনার পর জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর কথায় রাজ্যপাল হতবাক। রাজ্যপালের বক্তব্যে এমন কিছু ছিল না যাতে মুখ্যমন্ত্রী আহত হতে পারেন। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় রাজ্যপাল নীরব থাকতে পারেন না। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষা ও আচরণে রাজ্যপাল দুঃখ পেয়েছেন। রাজ্যপাল শুধু ওই এলাকায় শান্তিরক্ষা করতে বলেছিলেন।
এদিকে রাজ্যপালকে নিয়ে মমতার বক্তব্যের পর রাস্তায় নামেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। কলকাতায় বিজেপির দপ্তরের সামনে অবরোধ করেন তাঁরা।