বুধবার , নভেম্বর ১৩ ২০১৯
শিরোনাম

ট্রাম্প-পুতিনের প্রথম বৈঠক

প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠকে মিলিত হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গতকাল জার্মানির হামবুর্গে জি-টোয়েন্টি সম্মেলনের প্রাক্কালে দুই নেতা এ বৈঠকে অংশ নেন। এ সময় তাদের করমর্দনের বিষয়টিও উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে। একে বিশ্ব শান্তির জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক করমর্দন বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। রুশ সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দুই নেতার মধ্যে আধঘণ্টার একটি বৈঠকের কথা রয়েছে।
প্রথম সাক্ষাতে পুতিনের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্মানের। উত্তরে পুতিন বলেন, আপনার সঙ্গে দেখা হওয়ায় আমি আনন্দিত। গতকাল বৈঠক দুই নেতার প্রাথমিক সাক্ষাৎ বলে জানিয়েছে বিবিসি। পরে দীর্ঘ সময়ের জন্য আরেকটি বৈঠকে মিলিত হবেন তারা।
এদিকে শিল্পোন্নত ২০টি দেশের সম্মেলন জি-২০ শুরুর আগে জার্মানির হামবুর্গ শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে পুলিশের অন্তত ৭৬ সদস্য আহত হয়েছে বলে। এদের মধ্যে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের মধ্যে সম্মেলনবিরোধী বিক্ষোভকারীরাও আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবরে বলা হয়, প্রায় ১২ হাজার বিক্ষোভকারী মুখোশ পরে মিছিল শুরু করে। তারা ‘নরককে স্বাগত’ বলে সেøাগান দেয়। তাদের থামাতে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ এক পর্যায়ে পানি কামান ও মরিচের গুঁড়া স্প্রে নিক্ষেপ করে। পুলিশের দিকে বোতল, পাথর ও মশাল ছুঁড়ে পাল্টা জাবাব দেয় তারা। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দেয় এবং যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়া। এছাড়া, পুলিশের একটি হেলিকপ্টারের পাইলটকে বিভ্রান্ত করতে বিক্ষোভকারীরা দিকে ধারাবাহিকভাবে লেজার রশ্মি ছুড়ে মারে বলেও দাবি তাদের। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর বিক্ষোভের আয়োজকরা জি-২০ সম্মেলনস্থলের দিকে যাত্রা বাতিল করে। তবে তারা বিভিন্ন রাস্তা দখল করে রাখে। যে কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে বলে পুলিশের ভাষ্য থেকে সজানা যায়। সংঘর্ষের পর শহরের বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যকর্মীদের চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে। বিবিসি প্রতিনিধি অন্তত এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও দেখেছে, তাকে কম্বলে জড়িয়ে সরিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বাণিজ্য ও পরিবেশগত ইস্যুতে ন্যায়বিচার ও সমতার আকাক্সক্ষায় বিভিন্ন অ্যাক্টিভিস্ট গ্রæপের ১ লাখ বিক্ষোভকারীর জমায়েত হতে পারে সম্মেলনস্থলে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য শহরেও। খবরে বলা হয়, বিক্ষোভের আগেই পুলিশ সংঘর্ষের ব্যাপারে সতর্ক করেছিল; তারা ঘরে বানানো অনেক অস্ত্র জব্দ করার কথাও জানিয়েছে। হামবুর্গে সম্মেলনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় প্রায় ২০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা যেন সম্মেলনস্থলে পৌঁছাতে না পারে সেজন্য ভেন্যুর আশপাশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জি-২০ সম্মেলনের দুইদিন শুক্র ও শনিবার হামবুর্গজুড়ে অন্তত এক লাখ বিক্ষোভকারী উপস্থিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবারের সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ও মুক্ত বাণিজ্য নীতি নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সম্মেলনের আগে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সম্মেলনেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কথা। প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে জার্মানির বাল্টিক সি রিসর্ট হাইলিগেনডামে জি-সেভেন বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ২০১৫ সালে বাভারিয়ার এলমাওতে জি-সেভেনের আরেকটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এখন হামবুর্গে আয়োজিত হচ্ছে জি-টোয়েন্টি সম্মেলন। এ আয়োজনের সভাপতিত্বের দায়িত্বে রয়েছে জার্মানি। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, তুরস্কসহ ১৯টি ধনী দেশ ও ইইউ’র প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। সদ্য নিরঙ্কুশ মার্কিন আধিপত্যের কাল পেরিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে প্রকট হচ্ছে কর্তৃত্বের দ্ব›দ্ব। ঐক্যের অভাব স্পষ্ট হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের কর্মকান্ডে। তিন নেতাই জি-টোয়েন্টি বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এটাও পরিষ্কার যে, তিন নেতাই বৈঠকে নিজেদের এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াই, নারী নীতি এবং স্বাস্থ্যসেবা ছাড়াও প্রাধান্য পাবে মুক্তবাণিজ্যের নীতি।