বৃহস্পতিবার , অক্টোবর ১৭ ২০১৯
শিরোনাম

রিজার্ভ চুরির অর্থ উদ্ধারে আবারও প্রতিশ্রুতি

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের হিসাব থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে আবারও একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তিন পক্ষই। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের মধ্যে এক সভায় এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়। সভায় আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানকারী সংস্থা সুইফটের কর্মকর্তা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন। গত সোমবার নিউইয়র্ক ফেড ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।

ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের সঙ্গে গত ২১ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছে। ওই বৈঠকের বিষয়ে গত সোমবার ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইটে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। গতকাল সে সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিবৃতিতে গত বছরের আগস্টে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতির আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি সুইফট চ্যানেলে আন্তর্জাতিক আন্তব্যাংক লেনদেন (করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং) যেন সুরক্ষিত হয়, সে অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রিজার্ভ চুরির পর বাংলাদেশ ব্যাংক সুইফট-সম্পর্কিত ব্যবস্থাদি পুনর্গঠন করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা আরও নিরাপদ করা সম্ভব হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত পক্ষগুলো, বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া পুরো অর্থ পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। তা ছাড়া আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। একই ধরনের সাইবার হামলা থেকে বিশ্ব আর্থিক ব্যবস্থা সুরক্ষার জন্য বহুজাতিক আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয় বিবৃতিতে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওই সভায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি, বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ ও যুগ্ম পরিচালক আব্দুর রব। ফেডারেল রিজার্ভ ছাড়াও দেশটির আইন বিভাগ, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (এফবিআই) সঙ্গেও বৈঠক হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের দলটির।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্ক ফেডে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া ২ কোটি ডলার ফেরত আসে। এ ছাড়া ফিলিপাইনে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে ১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার ফেরত আসে। বাকি অর্থ উদ্ধারের কোনো অগ্রগতি হয়নি। রিজার্ভ চুরির ঘটনায় গত বছরের মে মাসে সুইজারল্যান্ডে এবং আগস্ট মাসে সুইফট ও নিউইয়র্ক ফেডের সঙ্গে সভা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব সভায় অর্থ উদ্ধারে সহায়তা চায় বাংলাদেশ ব্যাংক।